অনুসন্ধান    

Logo

 
Logo

মানব কল্যাণ সংস্থা (MKS) সম্পর্কে

তৃণমুলের ক্ষমতায়ন ও আত্ন সামাজিক উন্নয়ন

‍"মানব কল্যাণ সংস্থা" একটি উন্নয়ন মুলক সেচ্ছাসেবী বেসরকারী সংস্থা। এই সংস্থাটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের শেষ প্রান্তে, সবচাইতে অবহেলিত জেলা হিসেবে পরিচিত জেলা কুড়িগ্রাম । এই কুড়িগ্রাম জেলার অবহেলিত পিছিয়ে পড়া দরিদ্র সুযোগ বঞ্চিত নারী পুরুষের ভাগ্য উন্নয়নে ব্রত নিয়ে ১৯৮৩ ইং সালের ২৭ শে সেপ্টেম্বর নাগেশ্বরী উপজেলার নেওয়াশী গ্রামে নেওয়াশী হাইস্কুল মাঠে কতিপয় উদ্যোগী যুবক একত্রিত হয়ে "মানব কল্যাণ সংস্থা" নাম করণ করে যাত্রা শুরু করে। শুরুতেই আজাহার আলী সরকারকে আহব্বায়ক ও পরে সভাপতি করে। ১৯৮৬ ইং সালে রংপুর সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে রেজিষ্ট্রেশন নিয়ে আত্ন সামাজিক উন্নয়নমুলক প্রকল্প এবং ত্রান ও পুর্নবাসন কার্যক্রম সম্পুর্ন চালু করেন। পিউসো নামক দাতা সংস্থার সহযোগীতায় এই সংস্থাটিকে সরাসরি বৈদেশিক সহযোগীতা গ্রহনের জন্য এফ,ডি, রেজিষ্ট্রেশন গ্রহনের জন্য যে ব্যাক্তিটি বেশী অবদান রেখেছেন তার নাম মি: জুলিয়ান ফ্রান্সিস। ১৯৮৭ ইং সাল থেকে অদ্যবদী সেই মানুষটি বিভিন্ন ভাবে (MKS) কে বিভিন্ন ধরনের সহযোগীতা করে আসছে। যে মহান মানুষটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতের সরনার্থীদের মাঝে ক্লেশহীন ভাবে ত্রান সামগ্রী বিতরন করার মধ্য দিয়ে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশের হত দরিদ্র মানুষের মাঝে কাজ করে চলেছে। এই সংস্থাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আরো যে, ব্যাক্তিদ্বয় পরামর্শ ও আর্থিক সহযোগীতা করেছিলেন তাদের নাম মিঃ আলি আহম্মেদ জিয়া উদ্দিন ও মিঃ ফেরদৌসুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক(প্রদীপন) শুরু থেকে মানব কল্যাণ সংস্থা কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দরিদ্র ও সুযোগ বঞ্চিত নারী পুরুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি মুলক প্রশিক্ষন দিয়ে দল গঠন করে বিভিন্ন ইস্যূতে সমন্বিত কাযক্রমের মধ্য যে আত্ন নির্ভরশীলতা অর্জনই মানব কল্যাণ সংস্থার প্রাথমিক উদ্দেশ্য।                

মানব কল্যাণ সংস্থা (MKS) আত্ন সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে দারিদ্র জন গোষ্ঠীর স্বাবলম্বীতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে তৃনমূল পর্যায়ে সংগঠন তৈরীর মাধ্যমে নতুন নতুন উন্নয়ন ধারনা কাজে লাগিয়ে বঞ্চিত হত-দরিদ্র নির্যাতিত নারী পুরুষকে সংগটিত করে। টেকনিক্যাল সহযোগীতা সহ বিভিন্ন ধরনের সমর্থন অব্যহত রেখেছে। দরিদ্র-বঞ্চিতরাই দারিদ্রতা বিমোচনের প্রধান শক্তি যদি তারা সংগঠিত হয় এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা অর্জনের সক্ষম হয়।

বাংলাদেশের অধিকাংশ জেলা দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে। উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত জেলা গুলোর মধ্যে অন্যতম দরিদ্রতম জেলা কুড়িগ্রাম। এ অঞ্চলের শতকরা ৮৫ ভাগ লোক কৃষি শ্রমজীবি। কৃষি একমাত্র জীবিকার উত্স হলেও জেলার পাশে উত্তরে ধরলা মধ্যে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমর, ফুলকুমর, সংকোশ, গঙ্গাধর, পাখিউড়া, পূর্বে শিঙ্গিরামসহ অসংখ্য নদ-নদীর গর্ভে প্রতি বছর বিলিন হয়ে যায় হাজার হাজার একর আবাদী জমি ঘরবাড়ী ও সম্পদ। প্রতি বছর বন্যা- খরা, নদী ভাঙ্গন, অতি বৃষ্টি, ঘুর্ণিঝর্ ও শৈত্য প্রবাহের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ চরম আঘাত হানে। ফলে জনগন সহায় সম্বল হারিয়ে দারিদ্রের সাথে পাঞ্জা লড়ে প্রতিনিয়ত।দিনে দিনে দারিদ্র কমছে না বরং বাড়ছে। নারী পুরুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বাড়ছে নিরক্ষরতা, শিশুশ্রম, ক্ষধা দারিদ্র, অপুষ্টি, মা ও শিমুর অকাল মৃত্য, বাল্য বিবাহ, বহু বিবাহ, অবৈধ তালাক, নির্য়াতন, ধর্মের নামে হানা-হানি, কুসংস্কার, স্বাস্থ্য জ্ঞানের অভাব কুড়িগ্রাম জেলার একটি নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।

সমস্ত শোষন বঞ্চনার বিরুদ্ধে বঞ্চিত শ্রেণীর লোক নিরন্তন সংগ্রাম করে আসলেও রাষ্ট্রের সকল বাধা এবং সকল পর্যায়ের পরিবর্তন সূচিত হয় না। ফলে শোষিত বঞ্চিত অবহেলিত জনগন সকল প্রকার সেবা থেকে বঞ্চিত থেকেই যায়।

কুড়িগ্রাম জেলার অধিকাংশ নারী পুরুষের অবস্থা করুন। সারাদিন হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করলেও তাদের কাজের কোন ন্যায্য মজুরী পায় না। উত্পাদনশীল কাজের পাশাপাশি উত্পাদন কাজেও নারীদের অংশগ্রহন কোন অংশে কম নয়। কিন্তু ধর্মীয় গোড়ামী, কুসংস্কার ও প্রচলিত নানা সামাজিক রীতিনীতির ফলে নারীদের প্রতিভা বিকাশ এবং তাদেরকে চলামান প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে বিরাট অন্তরায় সৃষ্টি করেছে ফলে নারী সমাজ অবিচার নির্যাতনের শিকারে পরিনত হচ্ছে। সমাজ ও পরিবারের জন্য নারীর বিশাল অবদান সত্ত্বেও নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব পুরুষদের হাতেই সিমাবদ্ধ। স্থানীয় সরকারী সেবা প্রতিষ্ঠানের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে দরিদ্র নারী পুরুষ।

উপরোক্ত পরিস্থিতির ও সমস্যা চিহ্নিত করে কর্ম ব্যাবস্থাপনার সাথে জনগনের অংশ গ্রহন নিশ্চিত করে সরকার ও বে-সরকারী সহায়তার মাধ্যমে শিশুশিক্ষা, বয়স্কশিক্ষা, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা, ভূমি অধিকার, অবৈধ তালাক, যৌতুক, বাল্য বিবাহ, বহু বিবাহ, শিশুশ্রম, ধর্মীয় গোড়ামী ও কুসংস্কার প্রতিরোধ করার জন্য সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিকরে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পে নারী পুরুষের ক্ষমতায়নে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে মানব কল্যাণ সংস্থা(MKS)সমন্বিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।


 

প্রধান পৃষ্ঠপোষক :
এ বি এম আজাদ
জেলা প্রশাসক, কুড়িগ্রাম ।

পৃষ্ঠপোষক:
মোঃ ইমতিয়াজ হোসেন
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সাবিক ), কুড়িগ্রাম ।

ডোমেইন পরিকল্পনা ও সমন্বয়কারী :
মোঃ আব্দুল ওয়ারেছ আনসারী
সহকারী কমিশনার ( গোপনীয় ), কুড়িগ্রাম

NGO সমূহ