অনুসন্ধান    

Logo

 
Logo

SHUSHILAN সম্পর্কে

প্রতিপাদ্য ২০১৪-১৫ "ভ্যেলু ইন এ্যাপ্রোচের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখা" "Contribute to Sustainable Development through Value Chain Approach"

সুশীলন শব্দের অর্থ সুন্দর কাজের অনুশীলন। একটি কাজ বার বার চেষ্টা করাই হলো সুশীলন।

 

সচেতনতা বৃদ্ধি উপকারভোগী নির্বাচন কর্মসূচী

ভূমিকা

মূল প্রকল্পের নাম : নর্দান এরিয়া রিডাক্সন অফ প্রোভাটি ইনিসিএটিভ (NARI) Project

প্রকল্প সমন্বয়কারী : শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী : বাংলাদেশ রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ  (বেপজা)

অর্থায়নে: - বিশ্ব ব্যাংক

 

প্রকল্পের প্রেক্ষাপট:

উত্তরাঞ্চলের নারীদের তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে তিন মাসের বিনামূল্যে থাকা ও খাবার সুবিধাসহ একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে। যেহেতু পুরুষদের তুলনায় নারীদের উপযুক্ত কর্ম পরিবেশ সম্বলিত কাজের সুযোগ অনেক কম এবং তৈরি পোশাক শিল্পে দক্ষ নারী শ্রমিকের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে, তাই প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পের অধীন কেবলমাত্র নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যই প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার তিনটিতে, যথাক্রমে সাভার ইপিজেড (ঢাকা), ইশ্বরদী ইপিজেড (পাবনা) ও কর্ণফুলী ইপিজেড (চট্রগ্রাম)-এ, স্থায়ী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ সময়কালীন শেষ ০১ মাস প্রত্যেক প্রশিক্ষনার্থী ইপিজেডে অবস্থিত গার্মেন্টস কারখানায় শিক্ষনবীশ কর্মী হিসাবে হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ পাবেন। প্রশিক্ষণ শেষ হবার পরও প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থী আরও অতিরিক্ত ০৩ মাস সামান্য খরচে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে থাকার সুযোগ পাবেন। প্রাথমিকভাবে উত্তরাঞ্চলের ০৫ টি জেলা থেকে সর্বমোট ১০৮০০ জনকে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে যেন একজন প্রশিক্ষণার্থী চাকুরির সুযোগ পান সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

 

প্রকল্পের এলাকা

প্রাথমিকভাবে উত্তরাঞ্চলের ৫ টি জেলা, যথা রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও নীলফামারির ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মসূচীটি বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পের প্রত্যক্ষ উপকারভোগীগণ

উপরোক্ত জেলাসমূহের ১৮-২৪ বছরের নারীরা।

প্রকল্পের অধীন কর্মসূচিটির উল্লেখযোগ্য কাজসমূহ:

অবহিতকরণ সভা:

মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরুতেই প্রকল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত বিভিন্ন পক্ষসমূহের সাথে অবহিতকরণ সভার আয়োজন করা হবে। এইসব সভায় প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের সাথে মতবিনিময় করা হবে। 

আবেদনপত্র বিতরণ সংগ্রহ:

যারা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে চান তাদেরকে নিম্ন লিখিত স্থানগুলো থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে তা যথাযথভাবে পূরণ করে জমা দিতে হবে-

*     ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য ও সেবা কেন্দ্র

*     সুশীলনের জেলা অফিস

*     ইউনিয়ন পরিষদ

হট লাইন নাম্বার

 

নিন্ম লিখিত নম্বরসমূহে ফোন করে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানা যাবেঃ

(পাঁচ জেলার হটলাইন নাম্বার বসবে।)

       রংপুর - ০১৭১২৯৮৭৭৩০

       গাইবান্ধা - ০১৭২৪৮৫০০০৫

       কুড়িগ্রাম - ০১৭১২৩৭৮৩৬১

       লালমনিরহাট -০১৭১৬৯৫০০৬১

       নীলফামারি – ০১৯৮১১৩২১৪১

        পীরগঞ্জ- ০১৭১৯৮২২৭৮৮

 

প্রকল্পের যে সকল কর্মসূচীর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য জানা যাবেঃ

মাইকিং - প্রকল্প এলাকায় মাইকিং করে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য প্রচার করা হবে।

স্পটভিত্তিক আলোচনা- ইউনিয়নের বিভিন্ন স্পটে আলোচনা কর্মসূচীর আয়োজন করা হবে যেখানে অংশগ্রহণ করলে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অবগত হওয়া যাবে।

ওরিয়েন্টশন কর্মসূচী- চুড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের জন্য দিনব্যপি ওরিয়েন্টশন কর্মসূচীর আয়োজন করা হবে যেখানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ এর বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

তথ্য কিয়োস্ক- প্রকল্প এলাকার ইউনিয়ন ও তথ্যসেবা কেন্দ্রে ০১ মাসব্যাপী তথ্য কিয়োস্ক স্থাপন করা হবে যেখানে প্রকল্প ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করা হবে।

পোস্টার- প্রকল্প এলাকায় প্রশিক্ষণের উপর পোস্টার সরবরাহ করা হবে যার মাধ্যমেও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য জানা যাবে।

বিলবোর্ড -  সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের আঙিনায় কিংবা জনবহুল স্থানে প্রশিক্ষণ বিষয়ে তথ্য সম্বলিত বিলবোর্ড স্থাপন করা হবে।

উঠান বৈঠক-  নিয়মিতভাবে গ্রাম পর্যায়ে উঠান বৈঠক আয়োজন করা হবে যেখানে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ তথ্য বিনিময় করবেন।

পাবলিক হিয়ারিং- এই কর্মসূচীটি প্রকল্প এলাকায় নির্দিষ্ট স্থানে আয়োজন করা হবে যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারীদের প্রকল্প ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রদান করা হবে।

 

কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

 

১। প্রশিক্ষণের জন্য প্রাথমিক যোগ্যতা কি হবে?

 

     নিম্ন লিখিত বিষয়সমূহ প্রাথমিক যোগ্যতা হিসাবে বিবেচনা করা হবে :

    *    আবেদনকারীকে অবশ্যই দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের সদস্য হতে হবে।

    *    প্রার্থীকে রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারি ও লালমনিরহাট জেলার নির্ধারিত উপজেলার অধিবাসী হতে হবে।

    *   ১৮-২৪ বছর বয়স হতে হবে।

    *    অষ্টম শ্রেণী পাশ হতে হবে।

    *    তৈরি পোশাক শিল্প কারখানায় কাজের আগ্রহ ও শারীরিক যোগ্যতা থাকতে হবে।

২। এই প্রশিক্ষণের জন্য কেন শুধুমাত্র নারীদের সুযোগ দেয়া হচ্ছে?

পুরুষদের তুলনায় নারীদের উপযুক্ত কর্মপরিবেশে কাজ করার সুযোগ অপেক্ষাকৃত কম। আবার একই সাথে বস্ত্র শিল্প কারখানায় সবচেয়ে বেশি কাজ করছে নারীরা। এই খাতে দক্ষ নারী শ্রমিকের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। শহরে এসে নারীরা সঠিক কাজের সন্ধান ও প্রাথমিক বাসস্থান না পেয়ে বিপদগ্রস্ত হয়। এইসব দিক বিবেচনা করে এই প্রকল্প আপাতত শুধুমাত্র নারীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

৩। প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে অংশগ্রহণকারীরা কোন ভাতা পাবেন কি?

হ্যাঁ। প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে অংশগ্রহণকারীরা নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাতা পাবেন।

৪। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করলেই কি চাকুরী নিশ্চিত?

না, প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করলেই যে চাকুরী নিশ্চিত তা বলা যাবেনা। সঠিকভাবে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হলে সহজে চাকুরী পাওয়া যেতে পারে। কারণ তৈরি পোশাক শিল্পে দক্ষ শ্রমিকের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।

৫। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো কোথায় অবস্থিত?

ইশ্বরদী ইপিজেড (পাবনা), ঢাকা ইপিজেড, (সাভার) ও কর্ণফুলী ইপিজেড (চট্রগ্রাম)

৬। প্রশিক্ষণ শেষে নারীরা কি ধরণের কাজ করবেন?

তৈরি পোশাক শিল্প কারখানায় সাধারণত কাপড় সেলাই করা, কাপড় কাটা বা গুণগত মান ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করা ইত্যাদি কাজ করবেন।

৭। প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন?

আধুনিক ব্যবস্থায় স্থাপিত যন্ত্রপাতির মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে। এছাড়াও নারী নিরাপত্তা কর্মীরা সবসময় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা বিধান করবেন।

৮। প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য কীভাবে পেতে পারি?

ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগের মাধ্যমে অথবা হটলাইনে ফোন করার মাধ্যমে, সুশীলনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বা সুশীলনের উপজেলা বা জেলা পর্যায়ের অফিসে যোগাযোগ করে। সুশীলনের মাঠকর্মী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের কাছ থেকেও তথ্য জানা যেতে পারে।

৯। প্রশিক্ষণের জন্য আবেদনপত্র কোথায় পাব?

আবেদনপত্র ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে (সুশীলনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও) বিনামূল্যে সংগ্রহ করা যাবে। আবার সুশীলনের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কার্যালয়ে যোগাযোগের মাধ্যমেও আবেদনপত্র সংগ্রহ করা যাবে।

১০। প্রশিক্ষণের যোগ্যতা নির্ধারণের জন্য কোন পরীক্ষা দিতে হবে কিনা?

না। প্রশিক্ষণের যোগ্যতা নির্ধারণের জন্য কোন ধরণের পরীক্ষা দিতে হবে না। কিন্তু অংশগ্রহণকারী নির্বাচনের যে যোগ্যতা নির্ধারণ করা আছে তার সাথে যথাযথভাবে মিল থাকতে হবে।

১১। প্রশিক্ষণ শেষে কতটাকা আয় করা যাবে?

প্রশিক্ষণ শেষে একজন দক্ষ শ্রমিক হিসাবে সরকার কর্তৃক ২০১৩ সালে নির্ধারিত নুন্যতম মজুরী হিসাবে মাসে কমপক্ষে ৫৩০০ টাকা আয় করা যাবে। 

১২। এই অঞ্চলে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যায় না?

যেহেতু প্রশিক্ষণ শেষে চাকুরী পাওয়ার বিষয়টি গুরত্বপূর্ণ, তাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর জন্য সেইসব ইপিজেডগুলোতেই স্থাপন করা হয়েছে যেখানে দক্ষ শ্রমিকের যথেষ্ঠ চাহিদা রয়েছে।

১৩। নির্বাচিত নারীদের নাম কিভাবে জানা যাবে?

চুড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের তালিকা ইউনিয়ন পরিষদের টানিয়ে দেয়া হবে  এবং সুশীলন ওয়েবসাইটেও পাওয়া যাবে। একই সাথে নির্বাচিতদের মোবাইল ফোন নম্বরে এসএমএস এর মাধ্যমে অবগত করা হবে।

১৪। প্রশিক্ষণের পর চাকুরী না পেলে কি করবো?

সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করলে চাকুরী পাওয়া অনেকটাই সহজ হবে।

১৫। হোস্টেলে থাকাকালীন সময়ে পরিবারসহ/সন্তানসহ কি থাকা যাবে?

না। পরিবারসহ থাকার ব্যবস্থা নেই।

১৬। বিবাহিত মেয়েরাও কি প্রশিক্ষণের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন?

হ্যাঁ। বিবাহিত মেয়েরাও প্রশিক্ষণের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন।

 

আরো বিস্তারিত তথ্য জানতে নিকটস্থ ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যসেবা কেন্দ্রে বা সুশীলনের জেলা অফিসে যোগাযোগ করুন।

বাস্তবায়নে : বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ

অর্থায়নে : বিশ্বব্যাংক

প্রচার ও প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনে : সুশীলন


 

প্রধান পৃষ্ঠপোষক :
এ বি এম আজাদ
জেলা প্রশাসক, কুড়িগ্রাম ।

পৃষ্ঠপোষক:
মোঃ ইমতিয়াজ হোসেন
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সাবিক ), কুড়িগ্রাম ।

ডোমেইন পরিকল্পনা ও সমন্বয়কারী :
মোঃ আব্দুল ওয়ারেছ আনসারী
সহকারী কমিশনার ( গোপনীয় ), কুড়িগ্রাম

NGO সমূহ